বাংলাদেশে রিকন্ডিশন গাড়ির দাম শোরুম বা ডিলারভেদে ভিন্ন হওয়ার পেছনে বেশ কিছু নির্দিষ্ট কারণ কাজ করে। ক্রেতা হিসেবে অনেক সময় মনে হতে পারে একই মডেলের গাড়ির দাম এক জায়গায় বেশি, অন্য জায়গায় কম কেন। এর প্রধান কারণগুলো নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হলো: ১. অকশন গ্রেড (Auction Grade) বা গাড়ির মান গাড়ির দাম কম-বেশি হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো এর অকশন গ্রেড। জাপান থেকে গাড়ি কেনার সময় প্রতিটি গাড়িকে একটি নির্দিষ্ট গ্রেড দেওয়া হয়।

  • উচ্চ গ্রেড (4.5, 5 বা S): এই গাড়িগুলো প্রায় নতুনের মতো হয়, কোনো দাগ বা ডেন্ট থাকে না। তাই এদের দাম বেশি।
  • মধ্যম বা নিম্ন গ্রেড (3.5, 3 বা R): এই গাড়িগুলোতে দাগ, ডেন্ট বা রিপেয়ারের ইতিহাস থাকতে পারে। ফলে এগুলোর দাম অনেক কম হয়।
  • R গ্রেড (Accidental/Repaired): জাপানে অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে এবং পরে মেরামত করা হয়েছে—এমন গাড়ির দাম অনেক কম। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী R গ্রেডের গাড়ি এনে ভালো গ্রেড বলে বেশি দামে বিক্রি করার চেষ্টা করতে পারে।

২. মাইলেজ (Mileage) গাড়িটি জাপানে কত কিলোমিটার চলেছে তার ওপর দাম নির্ভর করে।

  • কম মাইলেজ: জাপানে কম চলা গাড়ির ইঞ্জিন ও সাসপেনশন ভালো থাকে, তাই দাম বেশি।
  • বেশি মাইলেজ: বেশি চলা গাড়ির দাম কম। অনেক সময় মিটার ট্যাম্পারিং (মাইলেজ কমিয়ে দেখানো) করে বেশি দাম চাওয়া হয়, যা সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে বোঝা কঠিন।

৩. প্যাকেজ ও ফিচার (Trim/Package & Options) একই মডেলের গাড়ির মধ্যে বিভিন্ন প্যাকেজ থাকে (যেমন: টয়োটার ক্ষেত্রে X, G, বা WxB)।

  • টপ ভেরিয়েন্ট: এতে লেদার সিট, সানরুফ, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, বা উন্নত সেফটি সেন্সরের মতো ফিচার থাকে, যার কারণে দাম বেড়ে যায়।
  • বেস ভেরিয়েন্ট: সাধারণ ফিচারের গাড়ির দাম তুলনামূলক কম হয়।
  • রঙ: কিছু স্পেসিফিক রঙের (যেমন: পার্ল হোয়াইট বা ব্ল্যাক) চাহিদা বেশি থাকায় সেগুলোর দাম সাধারণ রঙের চেয়ে কিছুটা বেশি হতে পারে।

৪. উৎপাদনের সাল (Manufacturing Year) বনাম রেজিস্ট্রেশন সাল গাড়ির দাম মডেল ইয়ার বা উৎপাদনের সালের ওপর নির্ভর করে।

  • একই চেহারার গাড়ি হলেও যদি একটি ২০১৯ সালের তৈরি হয় এবং অন্যটি ২০২০ সালের হয়, তবে ২০২০ সালের গাড়িটির দাম বেশি হবে।
  • কখনও কখনও Facelift (নতুন ডিজাইন) মডেলের কারণেও দামে বড় পার্থক্য দেখা যায়।

৫. শুল্ক বা ট্যাক্সের ভিন্নতা আমদানী করার সময় গাড়ির বয়সের ওপর ভিত্তি করে শুল্ক বা ট্যাক্সে ছাড় (Depreciation) পাওয়া যায়।

  • যে গাড়িটি ৫ বছরের পুরনো হিসেবে ট্যাক্স সুবিধা নিয়ে আনা হয়েছে, তার দাম ১-২ বছরের পুরনো গাড়ির চেয়ে কম পড়বে। আমদানিকারকরা অনেক সময় এই ট্যাক্স বেনিফিট নিয়ে কম দামে গাড়ি অফার করতে পারেন।

৬. আফটার সেলস সার্ভিস ও ওয়ারেন্টি ভালো মানের শোরুমগুলো গাড়ি বিক্রির পর কিছু বাড়তি সুবিধা দেয়, যা ছোট বা সাধারণ ব্রোকাররা দেয় না। যেমন:

  • ১ থেকে ৩ বছরের ইঞ্জিন/ব্যাটারি ওয়ারেন্টি।
  • ফ্রি সার্ভিসিং সুবিধা।
  • গাড়ির আসল অকশন শিট ভেরিফিকেশনের সুযোগ।

এই সেবার নিশ্চয়তার জন্য নামী শোরুমগুলোর গাড়ির দাম কিছুটা বেশি হতে পারে। ৭. শো-রুমের খরচ ও অবস্থান যে শোরুমটি গুলশান বা বনানীর মতো প্রাইম লোকেশনে অবস্থিত এবং যাদের বিশাল ডিসপ্লে সেন্টার আছে, তাদের পরিচালন খরচ (Operating Cost) বেশি। এর প্রভাব গাড়ির দামে কিছুটা পড়তে পারে। অন্যদিকে, যাদের নিজস্ব শোরুম নেই বা যারা শুধু অনলাইন/পোর্ট থেকে সরাসরি বিক্রি করে, তারা কিছুটা কমে গাড়ি দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *